
ছবি: মুনীর ফাউন্ডেশন এর তত্ত্ববধানে যাকাত এর টাকা নির্মীত হলো ঘর!
মাগুরার গৃহহীন একটি পরিবারের জন্যে ঘর নির্মান করা হলো যাকাতের টাকায়। মুনীর ফাউন্ডেশন এর যাকাত ম্যানেজমেন্ট টীম এর সার্বিক তত্ত্ববধানে এই ঘর নির্মান সম্পন্ন হয়, এবং পরিবারের সদস্যরা এই ঘরে বসবাস শুরু করেছেন। যাকাতপ্রাপ্ত এই পরিবারের সদস্যদের পক্ষ হতে অনুভূতি জানিয়েছেন এই পরিবারের একজন সন্তান।
তিনি লিখেছেন:
আসসালামু আলাইকুম।
সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। এবং মুনির ফাউন্ডেশনের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো কৃতজ্ঞতা এবং ভালবাসা। আজ থেকে আমরা ঘরে উঠছি।
আমার ৩বোন আর আমি একা। থাকার সমস্যার কারনে বোন বড় টা নানা বাড়ি থেকে পড়াশোনা করেছে ছোট থেকে। আমাদের ২রুম বিশিষ্ট একটা ঘর ছিল। ১রুমে ২টা খাট; একটা তে আব্বু আম্মু অন্য টাই বোন ২জন।পাশের রুমে আমি থাকি।
আমি ২০১৩ সালে শহরের একটা স্কুলে ভর্তি সুযোগ পেয়ে সেখানে ভর্তি হই। আস্তে আস্তে ফিল করলাম বোনদের জন্য আলাদা রুম দরকার। ছুটিতে যখন বাড়ি আসতাম তখন ভাবতাম ১রাত-ই থাকবো তাই আশে পাশের কাজিনদের সাথে থাকতাম। আমার আব্বু কৃষক ছিলেন তাই আমার পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারছিলেন না(মেস ভাড়া+স্কুলের যাবতীয় খরচ)তাই তিনি চট্টগ্রামে শ্রমিক টাইপের একটা চাকরি করতেন।তবুও সংসার খরচ বহন করে আমাকে যোগান দিতে পারছিলেন না। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম নিজে আয় করে পড়াশোনা করব। ২০১৫ সাল (১০ম শ্রেণী) থেকে শুরু করলাম টিউশন সহ হাতের কাজ করা।
ছুটিতে বাড়ি গিয়ে অন্যদের বাড়ি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দিন পার হচ্ছিল তখন(২০১৫সালে)একটা ঘরের অভাব বুঝতে পারি।
কিন্তু আয় থেকে ব্যয় করে কোনো টাকা অবশিষ্ট থাকত না।আস্তে আস্তে ঘরটিও খারাপ হচ্ছে,পানি পড়তেছে,ঝড় হলে দুলতেছে।আব্বুকে বললাম কিছু টাকা অগ্রিম নিয়ে ঘরটা মেরামত করতে কিন্তু সম্ভব হল না।আমার চাচাদের নিকট গেলাম তারাও কোনো হেল্প করলেন না। এভাবে ২০১৫,১৬,১৭ সাল গেল। আমি এইস,এস,সি পাশ করলাম।ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ব।কিন্তু সেই সক্ষমতা না থাকাই এগোচ্ছিলাম না। তখন আমার এক কাজিনের পরামর্শ দিলেন টিউশন+পার্ট টাইম জব করে খরচ বহন করা সম্ভব। তাই তার কথা মত চলে এলাম চট্টগ্রামে। ভর্তি হই আই আই ইউ সি তে ইইই ডিপার্টমেন্টে।
২য় সেমিস্টার যাওয়ার পর পর বাড়িতে সবাই প্রচুর অসুস্থ হয়।তখন বাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য ৩য় সেমিস্টার কন্টিনিউ করা সম্ভব হল না।অসুস্থতা তিব্র হওয়ায় কিছু টাকা ঋণ হয়, আর সেটা পরিশোধ করতে গিয়ে পরের বারও সেমিস্টার শুরু করতে পারিনা।এদিকে বোন ২টা বিয়ে উপযুক্ত হচ্ছে। সবাই পরামর্শ দিল কিস্তিতে টাকা নিয়ে ঘর তুলতে কিন্তু কিস্তিতে সুদ থাকায় আম্মু রাজি হল না তাই ওইদিকে আমিও আর আগাইনি। সর্বোক্ষন এর পর আসল করোনা ভাইরাস আর আব্বুরও চাকরি গেল।আব্বু একেবারে বাড়িতে চলে গেলেন আর সংসারের খরচ আমার ওপর এসে পড়ে।এর পর থেকে আর ভার্সিটি কন্টিনিউ করা হল না।
আব্বু বাড়িতে গিয়ে বাকিতে একটা অটো কিনলেন, অটো কিনতেও মুনির ফাউন্ডেশন কিছুটা হেল্প করেছিল(এখনো টাকা পরিশোধ হয়নি)।
আমি চেষ্টা করলাম আমার আয় থেকে কিছু টাকা জমাতে। কিছু টাকা জমিয়েও ফেলি কিন্তু সেটা দিয়ে ঘর করা সম্ভব না। এরপর মুনির ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম দেখি এবং সেখানে আবেদন করলে মুনির ফাউন্ডেশন আমাকে এই হেল্পটা করে। জানিনা আগামি ৫বছরেও ঘর করতে পারতাম কিনা। 😥
আমি আল্লাহর কাছে ৪টা দোয়া করেছি তার মধ্যে ২টা কবুল হয়েছে আর ঘর সম্পুর্ণ হওয়ার মধ্যে দিয়ে ৩নং দোয়াটাও কবুল হল আলহামদুলিল্লাহ।
অনেক কথা শেয়ার করে ফেললাম।
সব শেষে আমার একটা রিকুয়েষ্ট ,মুনির ফাউন্ডেশনের সবাইকে আমাদের নতুন ঘরে দাওয়াত। আশা করি সবাই আসবেন❤






