মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। ২০১২-১৩ এর দিকে একটা ছোট্ট ভুলের কারণে আজ অনেক বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। শুরুর দিকে কোনো ধরণের বড় শারীরিক জটিলতা ছিল না, কিন্তু হঠাৎ যখন জ্বর উঠতো তখন ভালোই ভোগান্তিতে পরতে হতো। কিন্তু জ্বর পড়ে গেলে সবকিছু আবার স্বাভাবিকভাবেই চলতো। এরপর একবার জ্বর উঠার পর হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। এরপর মোটামুটি খারাপ একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।তার শারীরিক সমস্যার অবনতি শুরু হয়। তখন ডাক্তারের পরামর্শে চেক-আপ করে জানতে পারে ওর ফুসফুসের পাশে একটা জায়গায় অস্পষ্ট কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। আরো কিছু টেস্ট করানোর পর ডাক্তার জানান এটা অনেকটা ক্যান্সারের আগাম লক্ষণ। “আউট অফ নোহোয়্যার” এই ধরণের একটা নিউজ শোনাটা ফ্যামিলির জন্য বিশাল একটা ধাক্কাই ছিল।তারা এমনটা কল্পনা করেন নি। বেশ কিছুদিন তার পরিবার ঢাকা চট্টগ্রাম আসা যাওয়া করে ডাক্তার দেখানো, চেক-আপ করানোর জন্য। এসবের পর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় একটু কষ্ট(আর্থিক) করে হলেও ইন্ডিয়ায় নিয়ে গিয়ে অবস্থাটা সম্পর্কে আরেকটু ভালোভাবে জেনে আসা যাক। Cancer Center Welfare Home and Research Institute, Thakurpukur, Kolkata তে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় দেড়মাসের মতো ট্রিটমেন্ট চলে । যখন রাকিব একদম সুস্থ হয়ে উঠে তখন ওখানকার ডাক্তার, তার মাকে ডেকে কিছু কথা বলে যার অর্ধেকই তিনি ভালোভাবে বুঝতে পারেন নি। এটাই যে পরবর্তীতে কাল হয়ে দাঁড়াবে কেউ চিন্তাও করতে পারেনি তার পরিবার। তার মা তাকে নিয়ে ইন্ডিয়া থেকে খুশি মনে ফিরে এখানে সেখানে সবার সাথে দেখা করতে যাওয়া থেকে শুরু করে যেন সবকিছু একদম আগের মতো আছে।(কারণ যেখানে ক্যান্সারের আগাম লক্ষণ বলে সন্দেহ ছিল, সেই জায়গায় ইন্ডিয়াতে গিয়ে কোনো ধরণের সার্জারি করানো ছাড়া শুধুমাত্র মেডিসিন নিয়েই রাকিব মাশাল্লাহ সুস্থ হয়ে গেসে এটাতো আসলেই অনেক খুশির সংবাদ) অবস্থায় চলতে থাকলো। এরপর আর কোনো ধরণের সমস্যাই দেখা যায়নি রাকিবের। ২০২০ এর দিকে এপেন্ডিসাইটিসের কারণে একটা অপারেশনের জন্য বেশ কিছু টেস্ট করানোর কথা বলে ডাক্তার। এমনিতেই তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না, এর মধ্যে এতোগুলা টেস্ট এরপর অপারেশনের টাকা ম্যানেজ করা কষ্টকর ছিলো।তারপরেও সব করানোর পর ডাক্তার যেটা বললো সেটা শোনার জন্য কেউই প্রস্তুত ছিল না। ডাক্তার জানান, ওর ফুসফুসের পাশে এক ধরনের এবনরমালিটি শো করছে। এর জন্য চিকিৎসা করানো দরকার। আত্মীয় স্বজন সবাই মিলে সাধ্যমতো সাহায্য করে যাতে তারাতারি ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে (কোভিডের কারণেও) ইন্ডিয়া যেতে বেশ কিছুদিন সময় লেগে যায়। Fortis Hospital, Kolkata তে নিয়ে যাওয়ার পর Biopsy test করানো হলে জানতে পারে ছোটবেলার সেই সমস্যাটা অনেক বড় আকার ধারণ করেছে। প্রথমবার রাকিবের আম্মুকে বলা ডাক্তারের কথাগুলো (রিপোর্ট অনুযায়ী) ছিল এরকম, “ছেলেকে এখন বাংলাদেশে নিয়ে নিয়মিত চেকআপে রাখেন। ২-৩ বছর ও আরো বড় হলে তখন এসে অপারেশন এর মাধ্যমে টিউমারটা অপসারণ করাটা বেটার হবে।” কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত তার মা কথাগুলো না বুঝার কারণে, (হয়তো কপালে এটাই লেখা ছিল) আজকে এতো বছর পর এসে টিউমারটা টেনিস বলের আকৃতি ধারণ করেছে (ডাক্তারের কথা অনুযায়ী)। এটাও আল্লাহর রহমত কেননা এপেন্ডিসাইটিসের প্রবলেমের সময়ই কিভাবে এই জিনিসটা ধরা পড়লো।
সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছে, টিউমারটা অপসারণের জন্য একটা অপারেশন করতে হবে। এর জন্য আপাতত ৩,৮৫,০০০ টাকার মতো লাগতে পারে। ডাক্তার জানিয়েছেন যদি অপারেশনটা তাড়াতাড়ি না করানো হয় তাহলে টিউমার ধীরে ধীরে ফুসফুসের দেয়ালে প্রেস করা শুরু করবে, এরপর শ্বাসকষ্ট, মাংসপেশি অবশ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সারের দিকে ধাবিত হতে পারে। টাকাটা হয়তো আপনাদের অনেকের কাছেই খুব অল্প শোনাচ্ছে কিন্তু ওদের জন্য এই অবস্থায় এই এমাউন্ট অনেক বেশি।
তাই দয়া করে আপনারা যে যেভাবে পারেন দ্রুত হাত বাড়িয়ে দিন, অন্যদেরও আহ্বান করুন। যদি সম্ভব হয় পোস্টটা শেয়ার করে দিন।
মহানবী (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় অপরের একটি প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে, পরকালে আল্লাহ তার ১০০ প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন এবং বান্দার দুঃখ-দুর্দশায় কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে আল্লাহ তার প্রতি করুণার দৃষ্টি দেন। ‘ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৬)।
সাহায্য পাঠাতেঃ
Bkash Personal:
01853 325153
Nagad, Rocket.
01738 12 51 07
Bank:
Munir Foundation
20502210203678017
IBBL, Sitakund Branch.
Reference: Rakib or 0099.







