
মহিমান্বিত মাস রমজান সমাগত।
মুসলমানদের জীবনে বছরে একবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বহুল কাঙ্খিত এবং সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মাসটি আগমন করে। অপরিমেয় শান্তি মুক্তি নাজাতের পয়গাম নিয়ে একেবারে দরজার চৌকাঠে এসে দাড়িয়েছে স্নিগ্ধ পবিত্রতম দিনগুলো। গুনাহ মাফ, সকল অপবিত্রতা কুপ্রবৃত্তি কামনা বাসনার উর্ধ্বে উঠে নিজেকে সংযতচিত্ত ও পূতপবিত্র করার সুযোগ নিয়ে মাস-টি আসে অনেক মূল্যবান উপহারের ঢালি সাজিয়ে।
তাই কোন বুদ্ধিমান মানুষ এ সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাইবেনা। শুধু তাই নয়, রমজানের আবহ পরিবেশ ও শিক্ষায় চতুর্দিকে যে আবেদন সৃষ্টি করে সেটা শুধু মুসলমানদের সমাজে নয় বিশ্বব্যাপী ভিন্ন সম্প্রদায়ের মাঝেও গুরত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। যাইহোক, সম্মানিত মেহমান চলে এসেছে। গৃহে মেহমান আসলে তাকে সন্তুষ্ট রাখার পাশাপাশি আমরা নিজেদেরও যেভাবে তার সামনে সুন্দর পোশাক-আশাকে আবৃত করে পরিপাটি মার্জিত আচরণ করার চেষ্টায় থাকি। রমজান আমাদের সেই শিক্ষা দিতে আসে।
রোজা রেখে সুস্থ সবল ও প্রাণবন্ত থাকতে সেহেরি ইফতার ও উপবাসকালীন কিছু সহজসাধ্য নিয়মকানুন মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় রমজানে হঠাৎ নিত্যদিনের অভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন আসার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপরিমিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাসের কারনে এটি হয়ে থাকে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক সেহেরি ইফতারে কি কি খাবার খেলে ও কি কি খাবার বর্জন করলে সিয়াম সাধনার মাসকে সুস্থতায় উপভোগ করতে পারবো বলে আশা করা যায়।
রোজা রাখার ক্ষেত্রে সেহরির গুরুত্ব সীমাহীন। সেহেরিতে কি খাচ্ছি সেটার উপর নির্ভর করে সারাদিনের সুস্থতা। শেষরাতে সুবহে সাদিকের আগে নির্দিষ্ট সময়ে রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাবার গ্রহণ করাকে সেহরি বলে। সেহেরির খাদ্য তালিকায় অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্হা রাখতে হবে। অতিরিক্ত মশলা ঝাল ও তেলচর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিমাণমত ভাত শাকসবজি ও মাছ মাংস খেতে হবে। অতিরিক্ত খেলে রোজা রাখতে সহজ হয় এই ভুল ধারণা বর্জন করা অতি জরুরী।
সেহেরিতে দু’একটা খেজুর খাওয়া উপকারী। হাদিস শরীফে খেজুরকে বরকতময় বলে উল্ল্যেখ করা হয়েছে।
ইফতারে প্রাকৃতিক উপকরণের শরবত যেমন বেল লেবু তোকমা ইসবগুলের ভুসির শরবত, ফলমূল ও ঘরে তৈরি খাবার নিশ্চিত করে, বাইরের খাবার থেকে যতটুকু সম্ভব বিরত থাকা সুস্থতার পূর্বশর্ত। ইফতারে ভাজাপোড়া এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর ইফতার তৈরি করলে নিঃসন্দেহে সারাদিন সিয়ামরত থাকার শারীরিক সুফল লাভ করা সহজ হবে।
রমজানে অবশ্যই কোল্ড ড্রিংকস অর্থাৎ পেপসি কোকাকোলা আর্টিফিশিয়াল জুসের মত ক্ষতিকর কোমল পানীয় পান করা উচিত নয়।
স্বাভাবিক সময়েও এসব পণ্য মানবদেহের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর পরিণতি ডেকে আনে। স্বাস্থ্যবিদরা রমজানে শুধু বিশুদ্ধ পানি পান করাকে সবচেয়ে ভালো বলেছেন। ইফতারের পর থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে কমপক্ষে দুই লিটার পানি পান সারাদিনের ক্লান্তি পানিশুন্যতার ক্ষতি পূরণ করে।
সবশেষ বলা যায়, প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বছরের অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের চিন্তা ভাবনা অভ্যাস ও দৈনন্দিন কার্যাবলীর অনেকটা বিপরীতে দাড়িয়ে জীবনকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা ও পরিবর্তন করার জন্য রমজান একটি আশ্চর্য ও ব্যতিক্রমী আয়োজন। পবিত্র কোরআনের আলোকে সিয়াম সাধনার এ মাসটি সৌভাগ্যের সাগরে নিজেকে ভিজিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। যে মাসে আছে কদরের মত মহান রজনী- যা মুমিনদের ইমানকে আভিজাত্য ও হৃদয়কে পবিত্রতার চাদরে আবৃত করে।





