আপনারা চাইলে আমাদের সাহায্য ছাড়াও ফান্ডরেইজিং করতে পারবেন। এজন্যে যা করতে হবে:
-
প্রথমেই সামাজিক লজ্জার কথা ভুলে যান। এজন্যে যাদেরকে আপনি লজ্জা পাচ্ছেন তাদেরকে আগেই সহযোগী বানিয়ে নিন। সম্ভব হলে একটা দাওয়াত দিন, অথবা অনলাইনে গ্রুপ খুলে সবাইকে এক জায়গায় করে নিন। এরপর আপনার প্রয়োজন এবং সমস্যা সবাইকে জানান। তারা যদি বলে পাবলিক ফান্ডরেইজিং এর প্রয়োজন নেই, তারাই আপনাকে টাকা দিবেন, তাহলে তো ভালোই। কিন্তু তারা যদি টাকা দিতে না পারে, তাদের বলুন যে আপনি দ্রুত পাবলিক ফান্ডরেইজিং শুরু করবেন, তারা যেন আপনাকে এসিস্ট করে।
-
আপনাকে যেহেতু অনলাইনে কাজটা শুরু করতে হবে, আপনার ফেসবুক বন্ধুদের এনগেজ করুন। হঠাত কালেকশন শুরু করবেন না। বরং বন্ধুদের নিকট হতে পরামর্শ নিন। পোষ্ট করতে পারেন “আমি আমার …… সমস্যার কারনে আর্থিকভাবে দুরবস্থায় পড়েছি; এটা বর্তমানে আমার একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না। সুতরাং আপনাদের হেল্প প্রয়োজন হবে। আমি শীঘ্রই আমার সকল কাগজপত্র ফেসবুকে পোষ্ট করবো। আপনাদের পরামর্শ চাই কিভাবে কাজটা সফল করতে পারি”। যারা আপনার পোষ্ট এ লাইক কমেন্ট করবে তাদের নিয়ে একটা মেসেঞ্জার/হোয়াটসএপ গ্রুপ ক্রিয়েট করে ফেলুন।
-
সকল ডকুমেন্টস একত্রিত করুন। ধরুন, আপনার চিকিৎসার জন্যে সহায়তা প্রয়োজন। সুতরাং শুরু থেকে যত ডকুুমেন্টস আছে সবগুলোই সুন্দরভাবে স্ক্যান করে নিন। সম্ভব হলে কোনো কম্পিউটার শপ এ গিয়ে প্রফেশনাল স্ক্যানার ইউজ করুন। অথবা সাইবার ক্যাফেতে যান। সকল ডকুমেন্টস তারিখ অনুযায়ী সিরিয়াল করে নিন এবং গুগল ড্রাইভে আপলোড করে দিন। সম্ভব হলে রিনেম করে নিন, ডকুমেন্টস টা কি সংক্রান্ত তা লিখে দিন। উদাহরন: রিপোর্ট এর নাম, ডাক্তার এর প্রেস্ক্রিপশন সাথে তারিখ।
-
আপনার সমস্যার বিবরন এবং সমাধানের উপায় এবং তার ব্যায় সংক্রান্ত সকল তথ্য একটা প্যারাগ্রাফ এ লিখে ফেলুন। আপনি লিখার পর তা হৃদয়গ্রাহী করার জন্যে কোনো একজন ভালো লেখকের সাথে পরামর্শ করুন। এবং যতটা সম্ভব ইমপ্রুভ করুন। বাংলা এবং ইংরেজী উভয় মাধ্যমেই লিখুন।
-
একাধিক ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ, রকেট, নগদ, পেপাল সহ দেশ/বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর মতো সকল ব্যাবস্থা এভেলেবল করুন। যাতে দান করতে আগ্রহী কেউ টাকা দিতে ব্যার্থ না হয়।
-
আপনার এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি ইত্যাদি সরকার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের রেকমেন্ডেশন নিয়ে রাখুন।
-
আপনার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট কপি এবং বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভিসার কপি এবং বিমানের টিকেট গুলো স্ক্যান করে ড্রাইভে আপলোড করে রাখুন।
-
আপনাকে যারা ফান্ডরেইজিং এর কাজে সহায়তা করতে রাজী তাদের মধ্য হতে ৩-৫জন এর একটা স্পেশাল টীম করুন। যারা মোটামুটি ধারনা রাখে, সৎ, গ্রহণযোগ্য এবং ডকুমেন্টশন এর কাজে আগ্রহী।
-
এবার আপনার ফেসবুক আইডিতে সকল ডকুমেন্টস যুক্ত করে একটা পোষ্ট করুন। পোষ্ট এর ক্যাপশনে আপনার গল্প, সমস্যা, সমাধান, এবং ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ, রকেট, নগদ, পেপাল ইত্যাদি যুক্ত করে দিন।
-
ইয়োরোপ বা আমেরিকাতে আপনার পরিচিত বিশ্বস্ত কেউ থাকলে তাকে রিচ করুন। তাকে অনুরোধ করুন আপনার হয়ে GoFundMe, launch good ইত্যাদি সাইটসমূহে আপনার জন্যে ফান্ডরেইজ করতে। তিনি রাজী হলে আপনার লিখিত স্টোরী (ইংরেজী ভার্শন) এবং আপনার গুগল ড্রাইভে থাকা সকল ডকুমেন্টস এর লিংক তাকে দিন।
-
দেশীয় ফান্ডরেইজিং সাইটগুলো যেমন oporajoy, shobaimile, helpnhelper সাইট সমূহে আপনার ফান্ডরেইজার খুলে রাখুন।
-
আপনার মূল কাজ শেষ। এখন পরবর্তীতে ক্রমাগতভাবে আপনার আপডেট সবাইকে জানাতে থাকুন।
-আপনার চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা,
-কত টাকা রিসিভ করলেন,
-কত টাকা ব্যায় করলেন,
-আপনার হাতে কতটাকা ব্যালেন্স আছে,
-ডাক্তার কি বললো,
-চিকিৎসা কতদিন চলবে,
-চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যায়ের জন্যে কত টাকা শর্ট আছে! ইত্যাদি জানাতে থাকুন -
আপনার ইন্টারন্যাশনাল ফান্ডরেইজার এ টাকা সংগ্রহ করার জন্যে তা বিভিন্ন ভাবে শেয়ার করতে হবে। একি সাথে আপনার ফেসবুক পোষ্ট ও শেয়ার করাতে হবে।
-
১ শেয়ার=১টাকা ধরনের ক্যামপেইন গুলো স্প্যাম হলেও, আপনার ষ্ট্রাটেজী অনুযায়ী প্রত্যেকটা শেয়ারেই আপনার জন্যে ডোনেশান নিয়ে আসবে। সুতরাং ফেসবুক এর বিভিন্ন সেলেব্রিটিদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের কনভিন্স করে আপনার পোষ্ট/ফান্ডরেইজার শেয়ার করান।
-
নিজে বিশ্বস্ত থাকুন। অন্যদের সহমর্মিতার মূল্য দিন। প্রয়োজনীয় টাকা হাতে এসে গেলে ফান্ডরেইজার বন্ধ করে দিন।
-
কখনোই কোনোভাবেই অসৎউপায় অবলম্বন করবেন না। লোভ রাখবেন না। আপনার দ্বারা যদি এমন কোন কাজ হয় যাতে অন্যদের বিশ্বাস ভংগ হবে, তাহলে আপনার পর অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাদের জীবন-মরন প্রশ্নে লোকজন ডোনেট করবে না।
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সমাধান খুজুন।






