খুব ছোটবেলা হঠাৎ করেই ডিসেন্ট্রি হয়। পরে প্রচন্ড জ্বর একটা সময় টাইফয়েড। শহর থেকে গ্রামের দূরত্ব অনেক তাই খুব দ্রুত ডাক্তারে নিয়ে যাওয়ারও সুযোগও ছিল না। একদিন দেখা গেল আদরের সোনামনিটার একটা চোখ উল্টে ভিতরের দিকে ঢুকে গেছে- মা ত চিৎকার চেঁচামিচি করে পেরেশান। পুরো বাড়িই মাথায় তুলে ফেলছে। কিন্তু দরিদ্র আর অসামর্থ্য যেখানে নিয়তির গল্প লেখে সেখানে কান্নাকাটি কোন পরিবর্তন আনতে পারে না। পরে যখন ডাক্তারে নিয়ে যাওয়া হলো তখন জানা গেল টাইফয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। সেই থেকে কাওছার আহমদ (১৮) একটা চোখ ছাড়াই জীবনের পনেরোটি ( ৩ বছরের সময় অসুস্থ হয়) বসন্ত পাড়ি দিয়েছে।
বলছিলাম সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার একটি গ্রাম মালিপুরের একজন কিশোর কাওছার আহমদের কথা। বাবা-মা দুজনই দিনমজুর। দিনে এনে দিনের খাবার যোগান দেওয়া মহিলা মানুষের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন নিজের বড় ছেলেটার চোখের আলো ফিরিয়ে আনার জন্য। কাওছারের বয়স যখন ৩ বছর তখন টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একটা চোখ নষ্ট হয়ে যায়। পারিবারিক অসচ্ছলতা ও যথাযথ পরামর্শ কারও কাছ থেকে না পেয়ে জীবনের আঠারোটি বছর কেটে গেছে কাওছারের। একটা চোখ নিয়ে মানুষ বাঁচতে পারে কিন্তু জটিলতা দেখা দিয়েছে ভিন্ন জায়গায় – কাওছারের নষ্ট চোখ ভাল চোখটাকেও এখন নষ্ট করে দিচ্ছে। অতিরিক্ত পানি পড়া, প্রচন্ড ব্যথায় চোখ ছিড়ে ফেলার উপক্রম হয় – এমতাবস্থায় কাওছারের মা সুনামগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ সহ বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করেন তারা নষ্ট চোখটা ফেলে দিয়ে একটি কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অনেক দৌড়-ঝাপের পর জানা গেল সরকারী হাসপাতালগুলোতে এরকম কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপনের পর কিছু জটিলতাও তৈরী হয়। পরে এলাকারই একজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ঢাকা ইস্পাহানী চক্ষু ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সন্ধান পান এবং সেখানে কৃত্রিম চক্ষু প্রতিস্থাপনে অনেক স্বল্প খরচে অসুস্থ চক্ষু রোগিগণ সুস্থ হয়েছেন জেনে সেখানে কাওছারকে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ১৯ জানুয়ারি ২০২০ সালে ইস্পাহানী চক্ষু ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তাররা সকল পরীক্ষানিরীক্ষা পর কাওছারকে কৃত্রিম চক্ষু প্রতিস্থাপনের জন্য সিদ্ধান্ত দেন এবং যেকোন সময় ৩ দিনের প্যাকেজে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নষ্ট চক্ষুটাকে অপারেশন করতে পারবে বলে তারা জানান। কিন্তু একজন দিনমজুর বাবা মায়ের জন্য অপারেশন ও কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপনের জন্য এতগুলো টাকা ম্যানেজ করা অত্যন্ত কষ্টের ও অসম্ভবও বটে। এ পর্যন্ত ঢাকা যাওয়া ও ডাক্তার দেখানোতে যে খরচটা হয়েছে তাও ঋণ ও দানের ওপর। তাই হৃদয়বান ও সামর্থবান মানুষের কাছে অনুরোধ একজন কিশোরের জীবনের আলো ফিরিয়ে দিতে আপনার হাতকে প্রসারিত করুন। আল্লাহ্‌ সাদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে কিয়ামতের দিন আপনাকে এর বিনিময় প্রদান করবেন ইন শা আল্লাহ্‌।
আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ
ۚ وَأَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَءَاتُوا الزَّكٰوةَ وَأَقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا ۚ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌۢ
আর সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। আর তোমরা নিজদের জন্য মঙ্গলজনক যা কিছু অগ্রে পাঠাবে তোমরা তাঁর কাছে সে সব পাবে প্রতিদান হিসেবে উৎকৃষ্টতর ও মহত্তর রূপে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ( সূরা মুজাম্মিল- ২০)।
– কাওছারের চিকিৎসা বাবদ মোট খরচ হবে চল্লিশ হাজার টাকা।
~নষ্ট চক্ষু অপারেশনের প্যাকেজ ২১০০০/-
~কৃত্রিম চক্ষু প্রতিস্থাপন ১১০০০/-
[নষ্ট চোখ অপারেশন এর দেড়মাস পর কৃত্তিম চোখ প্রতিস্থাপন করা হবে]
~অন্যান্য পরীক্ষানিরীক্ষা ৮০০০/-
নাম: কাওছার আহমদ
পিতা:
মাতা: ইন্দ্রমালা
গ্রাম: মালিপুর
পোস্ট অফিস: রামপুর বাজার
ইউনিয়ন: কালারুখা
উপজেলা: ছাতক
জেলা: সুনামগঞ্জ
মোবাইল: 01768333933 (আম্মা)
আমরা এখন পর্যন্ত যে সকল কাগজ পত্র হাতে পেয়েছি সেগুলোসহ পোস্ট করছি-
আমরা আশাকরছি একজন কিশোরের জীবনের আলো ফিরিয়ে দিতে সকলের কাংখিত সহযোগিতা পাওয়া যাবে। ইন শা আল্লাহ্‌।

Leave a Reply