কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে সুস্থ অবস্থায় বেঁচে থাকতে চান ছয় বছর বয়েসী শিশু সন্তানের মা! আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন
তিনি লিখেছেন,
আসসালামু আলাইকুম। আমি তাসলিমা ফেরদৌস মণি। আমার কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা প্রয়োজন। আমার পাশে আমার চিকিৎসায় আমার সাহায্যে পরিবার আপনজন কেউ নেই। আমি কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে বাঁচতে চাই। আমি ছয় বছরের একটি অবুঝ সন্তানের মা।আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিতীয় বার কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে আমার ছয় বছরের ছোট মেয়েটার জন্য সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। দয়াকরে আপনারা সবাই আমার সাহায্যে এগিয়ে আসুন।
আমি পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশায় ছিলাম। আমার জীবনটা স্বাভাবিক সুন্দর স্বপ্নময় কর্মময় ছিলো। কিন্তু ২০১৬ সালের ০১ অক্টোবর আমার একমাত্র মেয়ে হওয়ার সময় সিজার থেকে সিজারের জায়গা থেকে অধিক রক্তকরণ AKI,DIC হয়ে Multiple Organ Failure হয়ে ভাগ্য আমাকে নিয়ে যায় ICU তে লাইফ সাপোর্ট, ভেন্টিলেশনে। তখনই আমার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। তখন একটানা তিন মাস আমি ICU তে লাইফ সাপোর্ট,ভেন্টিলেশনে জীবন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করি প্রাইভেট হসপিটালে। এরপর একটানা দীর্ঘ দুই বছর ডায়ালাইসিস করার পর ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লি ফরিদাবাদ অবস্থিত Asian Institute Of Medical Science (AIMS)হসপিটাল থেকে আমি একটি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করি।
কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের পর আমি মোটামুটি সুস্থ ছিলাম।যদিও কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের এক মাসের ভিতরে আমার প্রোটিন যাওয়া শুরু হয়, ডায়বেটিস, ক্লোস্টরেল দেখা দেয় ও ক্রিয়েটিনিন বাড়তে থাকে। কিন্তু কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের আড়াই বছর পর আমার ক্রিয়েটিনিন অতিরিক্ত বাড়তে থাকে তখন ক্রিয়েটিনিন ছিলো ১.৮ সাথে অতিমাএায় প্রোটিন যেতে থাকে তখন প্রোটিন ছিলো ১০৮০ আর শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ইনফেকশন শুরু হয়। সে জন্য ২০২১ সালের ০১ জুলাই আমি ঢাকায় আমার কিডনি বায়োপসি করি বায়োপসি রিপোর্ট নিয়ে আমার ট্রান্সপ্লান্টের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে ডাক্তার আমাকে দিল্লি AIMS হসপিটাল আমার কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের ইউনিটে গিয়ে ভর্তি হয়ে ট্রান্সপ্লান্টের কিডনি রিজেকশন প্রতিরোধ ও স্লো করার চিকিৎসা গ্রহণ করার কথা বলেন।কিন্তু আমার পক্ষে রিজেকশন প্রতিরোধের চিকিৎসা সময়মত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি টাকার অভাবে। কারন কিডনি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় ইন্ডিয়া চিকিৎসা গ্রহন,কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট,কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের পরবর্তী চিকিৎসায় ততোদিনে আমার চিকিৎসা বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নিঃস্ব অসহায় হয়ে যায় আমার পরিবার।প্রথম পর্যায়ের এই লক্ষ লক্ষ টাকার চিকিৎসা খরচ আমার শ্বশুর বাড়ির পরিবার ও আমার বাবার বাড়ির পরিবার,আত্মীয় স্বজন মিলে বহন করেন।

প্রথম পর্যায়ের এই ব্যায়বহুল চিকিৎসা খরচ বহন করে আমার শ্বশুর বাড়ির পরিবার, আত্মীয় স্বজন আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বলা যায় অনেকটা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। কিছু দিন হলো আমার বাবাও মৃত্যু বরন করেন।

শেষ পর্যন্ত আমি মুনীর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাহায্য নিয়ে ২০২২ সালের আগস্টে দিল্লি AIMS হসপিটাল ট্রান্সপ্লান্টের কিডনি রিজেকশন প্রতিরোধের চিকিৎসা নিতে যাই।AIMS হসপিটাল ভর্তি হয়ে ট্রান্সপ্লান্টের কিডনি সবধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তার আমাকে জানান আমার ট্রান্সপ্লান্টের কিডনি ইতোমধ্যে রিজেকশন প্রতিরোধের চিকিৎসা গ্রহণের সময় অতিক্রম করেছে আমার ট্রান্সপ্লান্টের কিডনি এন্টিবডির জন্য বডি রিজেক্ট করেছে।ডাক্তার বলেন আমার পুনরায় কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। আমার ট্রান্সপ্লান্টের ডাক্তার আমাকে ট্রান্সপ্লান্টের ঔষধ,হিমোগ্লোবিন ইনজেকশন রক্তপরীক্ষা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আবারও দ্বিতীয় বার দ্রুত কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য।এন্টিবডির জন্য রিজেক্ট হওয়ায়,শরীরে ইতোমধ্যে শুরু হওয়া ইনফেকশনের জন্য ডাক্তারের পরামর্শমতো ভারতে দ্বিতীয় বার কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য খরচ হবে ৪০-৫০ লক্ষ টাকা।আমি কোনভাবেই দ্বিতীয় বার কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের টাকার ব্যবস্থা করতে পাররাম না।এদিকে যত দিন যাচ্ছে আমার শরীর খুবই খারাপ হচ্ছে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পাররাম না বর্তমানে আমার ক্রিয়েটিনিন ৩.২০ প্রোটিন ১৬৪১ ব্লাড ইউরিয়া ১০৯ কিডনির অন্যান্য রিপোর্ট গুলোও খারাপ আর স্কিনে অতিরিক্ত ইনফেকশন।

“আমি ছয় বছরের একটি অবুঝ সন্তানের মা।আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিতীয় বার কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে আমার ছয় বছরের ছোট মেয়েটার জন্য সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। দয়াকরে আপনারা সবাই আমার সাহায্যে এগিয়ে আসুন।”

সাহায্য পাঠাতেঃ
Bkash Personal:
01853 32 51 53
(Bkash account name for foreign transfer: Shanaj Begum)
Nagad, Rocket, Bkash (Personal).
01738 12 51 07
Bank:
Munir Foundation
2050 2210 203678 017
IBBL, Sitakund Branch.
রেফারেন্স এ লিখুন : Taslima অথবা 80
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান অপর মুসলমানকে বস্ত্রহীনতায় বস্ত্র দিলে আল্লাহপাক তাকে জান্নাতের সবুজ বস্ত্র পরাবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৩৫)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নাও, বস্ত্রহীন লোকদের বস্ত্র দাও এবং বন্দিকে মুক্ত করে দাও।’ (বোখারি, হাদিস : ২৪১৭)।
রাসূল (সা.) বলেন, ‘হে বনি আদম! যদি উদ্বৃত্ত অর্থ দান কর, তাহলে ভালো হবে আর আটকে রাখলে ক্ষতি হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৯৬৪)।
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারী একে অপরের সহায়ক।’ (সূরা তওবা, আয়াত: ৭১)।
সামর্থ্য অনুযায়ী দান করুন। এবং শেয়ার করে অন্যদের দান করতে উৎসাহ দিন। প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করবে একজন রোগীর চিকিৎসা।

Leave a Reply