আমার বাচ্চা কি বাঁচবো? ওরে নিয়া দৌড়াদৌড়ি করে কি কোনো লাভ হইবো ভাই?
জিজ্ঞেস করেছিলেন আমাদের কাছে একজন অসহায় পিতা। যার সামর্থ্য ছিলোনা। বাচ্চাকে কষ্ট পেতে দেখতেছেন নিয়মিত। কোথাও আশা নেই। সবাই ভয় দেখাচ্ছেন! বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্যে শুভাকাঙ্খীর অভাব থাকে, তবে আল্লাহর উপর ভরসা করে প্রচেষ্টা চালালে তিনি সমাধান করে দেন।
ময়মনসিংহের নাদিমের জন্যে আমরা ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা ব্যায় করেছিলাম! (নোট: ছবিটা প্রথমবার টাকা দেয়া পর তোলা হয়েছিলো। পরবর্তীতে বাকী টাকা দেয়া হয়)।
নাদিমুজ্জামান শিশির এর হার্ট অপারেশন করতে অর্থ যোগান করা মুনীর ফাউন্ডেশন এর ক্রাউডফান্ডিং কাযক্রম এর অন্যতম সাফল্য। ছয় বছর বয়েসী ময়মনসিংহের ছেলে নাদিমের বাবা শাহনুরজ্জামান একজন দিনমজুর। ছোটবেলাতেই নাদিমের হার্ট এ সমস্যা দেখা দিয়েছিলো। ডাক্তার অপারেশন করতে বলেছিলেন। কিন্তু অর্থাভাবে তিনি তা করতে পারেন নি।
বয়স কিছুটা বাড়লো, নাদিমের সমস্যাও বাড়লো। বাংলাদেশের ডাক্তারেরা আশা ছেড়ে দিলেন। নাদিমের বাবাকে বললেন সম্ভব হলে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে। কারন বাংলাদেশে এভেইলেবল চিকিৎসায় নাদিমের সুস্থতা কিছুটা অনিশ্চিত। পাশাপাশি আর্থিক সমস্যা তো আছেই!
নাদিমের সুস্থতার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
তাকে আমাদের একজন শুভাকাঙ্খী ভাই, যিনি মূলত: কোরিয়ায় থাকেন, তিনি আমাদের ব্যাপারে জানান। এবং আবেদন করেন। নাদিমের বাবা আমাদের সকল শর্ত পূরন করে সকল ডকুমেন্টস সহ আমাদের কাছে আবেদন করেছিলেন। আমরা ফিজিক্যালি ভেরিফাই করি, এবং ফেসবুক গ্রুপে ফান্ডরেইজার ওপেন করি।
আল্লাহর অশেষ রহমতে পর্যাপ্ত টাকা উঠে আসে। নাদিমকে নিয়ে তার বাবা ভারতের নারায়না হাসপাতালে যান, এবং ডা: দেবী শেঠীর নেতৃত্বে জটিল এই সার্জারী সম্পন্ন হয়। ইন্ডিয়াতেও ডাক্তারেরা সংশয়ে ছিলেন নাদিমের সুস্থতার বিষয়ে। তাকে নরমাল প্রসিডিওরের চেয়েও বাড়তি সময় আইসিইউতে রাখা হয়েছিলো!
যেহেতু হায়াত এর ফয়সালা আল্লাহর হাতে, আশা ছেড়ে দেয়া নাদিম এখন পরিপূর্ণ সুস্থ জীবনে প্রবেশ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি সিজদাহ। তিনিই আমাদের এই কাজের জন্যে মনোনীত করেছেন। এবং সফলতা দান করেছেন।
নাদিমের চিকিৎসার খরচের যোগান যিনি/যারা দিয়েছেন, আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন। আ-মী-ন।
ফিরে দেখা সফলতার গল্পগুলো!-১







