“যাদের পাশে কেউ নেই তাদের পাশে “মুনীর ফাউন্ডেশন” থাকবে এবং সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য সদা প্রস্তুত আছে। আমাদের সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এবং ইনশাআল্লাহ সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের সেবার হাত কে আরো বেশী করে প্রসারিত করবো”
-সেক্রেটারী, মুনীর ফাউন্ডেশন।
তিন বছর পূর্ণ হলো সামাজিক সহযোগীতামূলক প্রতিষ্ঠানি মুনীর ফাউন্ডেশন এর। ২০১৯ সালে ২৯ শে জুলাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সংগঠন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছে বিপদগ্রস্ত মানুষদের বিপদমুক্ত করার জন্যে। বিশেষ করে সারা দেশের ব্যয়বহুল চিকিৎসায় অক্ষম মানুষদের জন্য দারুন চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। ইতিমধ্যে শতাধিক রোগী পেয়েছেন চিকিৎসার খরচ!
বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে মুনীর ফাউন্ডেশন এর সারাদেশের স্বেচ্ছাসেবীরা একত্রিত হন। বক্তব্য রাখেন মুনীর ফাউন্ডেশন এর সেক্রেটারী শরিফুল ইসলাম সিরাজী, তিনি বলেন, “যাদের পাশে কেউ নেই তাদের পাশে “মুনীর ফাউন্ডেশন” থাকবে এবং সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য সদা প্রস্তুত আছে। আমাদের সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এবং ইনশাআল্লাহ সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের সেবার হাত কে আরো বেশী করে প্রসারিত করবো”
এছাড়াও ক্রাউডফান্ডিং টীম এর সিওও আব্দুল গণি বলেন,
“আমরা আজ পর্যন্ত শতাধিক রোগী থেকে একজনকেও হতাশ না করার জন্যে আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করেছি। আমাদের মুল কাজ হচ্ছে অর্থায়ন নিয়ে। আমরা ক্রাউডফান্ডিং করি এবং যার যতটুক প্রয়োজন তার কাছে ঠিক ততটুক পৌছে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা আমাদের ক্রাউডফান্ডিং টীম করে থাকে। এবং এসব কাজ কোনো ব্যাক্তি বর্গের কাছে খ্যাতি অর্জন করার জন্য নয় মূলত আমাদের রব মহান আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে করে থাকি।”
মুনীর ফাউন্ডেশন (Munir Foundation) মূলত: তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে,
১.ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপন
২.যাকাত ম্যানেজম্যান্ট
৩. পেশেন্ট ক্রাউডফান্ডিং।
আরো বক্তব্য রাখেন মুনীর ফাউন্ডেশন এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মুহাম্মাদ করিমুল ইসলাম, তিনি বলেন
“এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় মরহুম মুজাহিদুল ইসলাম মুনীর ভাইয়ের অনুপ্রেরণায়। যিনি ছিলেন একজন সাধারণ এবং সুস্থ জীবনযাপনকারী মানুষ। ২০১৭ সালে হঠাৎ তিনি কিছুটা অসুস্থতা বোধ করেন। যা ধীরে ধীরে নীরবঘাতক ক্যান্সার এ রুপান্তরিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর কোনো যথাযথ চিকিৎসা ছিল না। যার কারণে মুজাহিদুল ইসলাম মুনীর ভাইকে চিকিৎসার জন্য ভারতের ব্যাঙ্গালোরে শিফট হতে হয়।২০১৭-১৮ চিকিৎসা গ্রহণের পরে তিনি কিছুটা সুস্থ জীবন ফিরে পান। কিন্তু সময়টা অতিশয় সংকীর্ণ ছিল।
২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে যখন তিনি তার রুটিন চেকআপ করতে পুনরায় ব্যাঙ্গলোরে যান। এই সময় ডাক্তার তার পরিবার কে জানান “নন হডকিনন্স বিএস লিম্ফোমা” পুনরায় তার শরীরে ফিরে আসে। এই পর্যন্ত তার পরিবারের শহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে মুনীরের চিকিৎসা সম্পাদন করা হয়েছিল। দ্বিতীয়বার মুনীর সাহেবের শরীরে ক্যান্সার ফিরে আসায় সামর্থ না পরিবার ক্যাম্পিং শুরু করেন ক্রাউডফান্ডিং এর উদ্দেশ্যে। আলহামদুলিল্লাহ ক্রাউডফান্ডিং এর মাধ্যমে সবার অনুপ্রেরণা এবং সহায়তায় মুনীরের চিকিৎসা ভালোই চলছিল। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ২০১৯ সালের ২৯ শে জুলাই তিনি পরকাল গমন করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।
চিকিৎসা চলাকালীন তিনি সবসময় মহান আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করতেন এবং বলতেন আজ আমার এই অবস্থায় আমি যেভাবে সাহায্যের হাত পেয়েছি, তেমনিভাবে আমিই সুস্থতার পরে এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসায় অক্ষম ব্যাক্তিদের/ পরিবারকে সহায়তা করব। মুজাহিদুল ইসলাম মুনীরের এই অপূর্ণ ইচ্ছা আজ পুরণের চেষ্টায় আছে “মুনীর ফাউন্ডেশন” নামক এই অলাভজনক সংগঠন”।
রিসার্চ এন্ড ডেভেলাপমেন্ট টীম এর প্রধান শামসুল ইসলাম মাসুদ বলেন ”মুনীর ফাউন্ডেশন বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়ায় অবস্থান করলেও খুব দ্রুত একটি ক্রাউডফান্ডিং ফ্যসিলিটি গড়ে তুলবে ইনশাআল্লাহ। ইতিমধ্যে সবাইমিলে.কম নামে একটা ক্রাউডফান্ডিং সাইট তৈরী করা হয়েছে। এবং বাকী কাজ শেষে পাব্লিকলি লঞ্চ করা হবে। ফলে আমাদের কাজের ক্যাপাসিটি আরো বাড়বে এবং আরো বেশী মানুষকে আমরা আমাদের সেবার আওতায় নিয়ে আসতে পারবো। ইনশাআল্লাহ”
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রিসার্চ এন্ড ডেভলাপমেন্ট টীম মেম্বার জহির উদ্দিন পারভেজ, মানবসম্পদ উন্নয়ন টীমের ব্যাবস্থাপক নাবিল আল আশআরী, এবং সোস্যাল মিডিয়া টিম ম্যানেজার মিনহাজ উদ্দিন তুশিক। পাশাপাশি উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবকগণ তাদের আইডিয়া এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।






