
ঝর্ণা আক্তার (পেশেন্ট নং-৮৭) এর স্বামীর হাতে অপারেশন এর খরচ বাবদ মুনীর ফাউন্ডেশন এর পক্ষ হতে ১ লক্ষ টাকা হস্তান্তর।
প্রথম সন্তান গর্ভে আসা মানেই নতুন দম্পতির জন্যে সুখের সংবাদ। কিন্তু ঝর্ণা আক্তারের জন্যে তা ব্যাতিক্রম ছিলো। তার সন্তান গর্ভে আসার পর প্রথম তার হার্ট এ ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট বা VSD রোগ ধরা পড়ে।
ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট সাধারণভাবে হার্টের ফুটো নামে পরিচিত। এটি একটি সাধারণ জন্মগত রোগ, যা বহু শিশুর মধ্যেই দেখা যায়। এই ফুটো বা ছিদ্র সাধারণতঃ হার্টের প্রাচীর বা সেপ্টাম নামক অংশে দেখা যায়। এই সেপ্টাম বা প্রাচীর আমাদের হার্টের দুটি প্রকোষ্ঠকে (ভেন্ট্রিকল) পরস্পরের থেকে আলাদা করে। সুতরাং, এই প্রাচীরে ছিদ্র থাকলে রক্ত হার্টের বাম প্রকোষ্ঠ থেকে ডান প্রকোষ্ঠে চলে যায়, যার ফলে দূষিত রক্ত ও পরিশুদ্ধ রক্ত মিশ্রিত হয়ে যায়। হার্টের বাম প্রকোষ্ঠ বা নিলয়ের মূল কাজ হল রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু হার্টে ছিদ্র থাকলে রক্ত শরীরে পরিবাহিত হবার বদলে পুনরায় ফুসফুসে ফিরে যেতে পারে, যার ফলে হার্টের কাজ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। ফল স্বরূপ, হার্টকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয় এবং তাতে হার্টের নানা রকম অসুখ দেখা দিতে পারে। এমনকি হার্ট ফেল পর্যন্ত হতে পারে।
একদিকে তিনি গর্ভে সন্তান ধারন করছেন, অন্যদিকে এই সমস্যা। ডাক্তারের তার জীবন নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেন। বাবুর জন্মের সময় সাজেষ্ট করা হয় ঝর্ণাকে পি.জি হাসপাতালে নিয়ে যেতে।
আলহামদুলিল্লাহ, সকল শংকাকে কাটিয়ে ঝর্ণা জন্ম দিয়েছেন তার সন্তান কে। কিন্তু তার নিজের জীবনের শংকা কাটেনি এখনো। তার হার্ট এর সার্জারী দ্রুত করা প্রয়োজন, নয়তো সম্ভাবনা আছে যে, ঝর্ণা হার্ট এট্যাক করে জীবন হারাতে পারেন! (আল্লাহ তাকে সুস্থ করুন)। ডাক্তার বলেছিলেন ঝর্ণাকে বাবুর জন্মের ৬ মাসের মধ্যে সার্জারী করতে।
কিন্তু ঝর্ণার স্বামীর হাতে এই টাকা নেই। এমনকি প্রতি সপ্তাহের ঔষধের ২ হাজার টাকা যোগাড়েও তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। এই অবস্থায় প্রিয়তমা স্ত্রীর সার্জারীর কিভাবে করবেন সে বিষয়ে দিশেহারা তিনি!
আমাদের সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন ঝর্ণা, ছোট বাবু রেখে দুনিয়া থেকে চলে যেতে চান না নতুন মা হওয়া এই নারী। আমাদের কাছে ঝর্ণার আবেদন আসে। আমরা পর্যাপ্ত যাচাই বাছাই করেছি। এবং ঝর্ণার জন্যে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডরেইজিং করার পর ১ লক্ষ টাকা আমাদের হাতে উঠে এসেছে, এবং এই টাকা আমরা হাসপাতালে গিয়ে ঝর্ণার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছি।
মহান আল্লাহর কাছে ঝর্ণার সুস্থতা কামনা করি।
এবং সেইসাথে যারা আমাদের মাধ্যমে দান করেছেন তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান কামনা করি।







