Success Story

আমাদের গল্প ০১ | শোক ভূলে কাজ হলো শুরু

By November 14, 2022 December 9th, 2022 One Comment

প্রথম পেশেন্ট যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মুনীর ফাউন্ডেশন এর কাজ শুরু হলো

কাজ শুরু করার পর আমরা প্রথম আবেদন রিসিভ করি ২৫ শে অগাষ্ট ২০১৯ তারিখে। আমাদের প্রথম পেশেন্ট মি. মাহমুদুল হক আজাদ এর চিকিৎসায় ফান্ড কালেকশন করে দেয়ার জন্যে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালি তে। রিকোয়েষ্ট পাওয়ার পরেই আমরা পেশেন্ট এর পরিবারের পেমেন্ট ডিটেলস সহ আমাদের গ্রুপে পোষ্ট করতে বলেছিলাম। পেশেন্ট এর ছেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষ্টুডেন্ট ছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই বাবার ওপেন হার্ট সার্জারী করার সামর্থ্য একজন ছাত্রের থাকে না। তিনি লিখেছিলেন;
“আব্বু জানুয়ারিতে স্ট্রোক করেছেন। এনজিওগ্রাম করানোর পর হার্টের মধ্যে ৬টি ব্লক পাওয়া গেছে। রিং পরানোর অবস্থায় নাই বিধায় ওপেন হার্ট সার্জারি বা বাইপাস সার্জারি করাতে হবে। আব্বুর ডায়বেটিকস এর জন্যে গ্যাংরিন রোগের কারনে পায়ের গোড়ালি কেটে ফেলতে হয়েছে তাই হাঁটতে পারছেনা অনেকদিন।
জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে ট্রিটমেন্টের জন্যে অনেক টাকা খরচ হয়েছে ইতিমধ্যে। এখন ওপেন হার্ট সার্জারির জন্যে ভারতের নারায়না কার্ডিয়াক সেন্টারে ভর্তি হতে হবে। যার জন্য খরচ হবে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মতো। আমি আমার আব্বুকে এতো তাড়াতাড়ি হারাতে চাইনা। আপনার একটু সহযোগিতা, দোয়া এবং আল্লাহ চাইলে আমার আব্বুকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।
ডাক্তাররা সেপ্টেম্বরের(২০১৯) শেষ সপ্তাহে অপারেশনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে।
আব্বুর অবস্থা দিন কে দিন খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে।”
ফয়সাল বিন মাহমুদ
আইন বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
মুনীর ভাই জীবিত থাকা অবস্থাতেই সমস্যাগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসার টাকা যোগাড়ে কাজ করার ব্যাপারে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। জুলাইয়ের ২৯ তারিখ ভাইয়ার ইন্তেকালের দিন ই আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। তবে আমাদের পরিবারের জন্যে এটা নি:সন্দেহে একটা বড় ঘটনা ছিলো, তাই আমরা আসলে গুছিয়ে কাজ শুরু করতেই ১ মাস সময় লেগে যায় প্রথম এপ্লিকেশন রিসিভ করতে।
তখনো আমাদের নিজস্ব ষ্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর দাড়ায়নি, ইনফ্যাক্ট আমাদের অনেক সময় লেগেছে কিভাবে আমরা কাজ করবো তা ঠিক করতে। মজার ব্যাপার হলো পুরোপুরি তৈরী না হয়েও আমাদের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিলো, এবং আলহামদুলিল্লাহ শুরুতেই আমরা ভালো সাড়া পেতে থাকি।
প্রাথমিক ভেরিফিকেশন শেষে আমরা আবেদনকারীকে জানাই যে তিনি সকল ডকুমেন্টস এবং পেমেন্ট ডিটেলস দিয়ে গ্রুপে পোষ্ট করতে পারেন, এবং আশ্বাস দেই যে, আমাদের ডোনারগণ তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করবেন, ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি জানাই যে আমাদের ফান্ড থেকে ১ হাজার টাকা যুক্ত করা হবে। তখন আমাদের হাতে ভাইয়ার চিকিৎসা শেষে খুব ছোট একটা ফান্ড ছিলো। এটা থেকে আমরা পেশেন্টদের চিকিৎসায় অবদান রাখার সিদ্ধান্ত নিই।
যিনি আমাদের গ্রুপে পোষ্ট করেছিলেন (পেশেন্ট এর ছেলের বন্ধু) তিনি তখন জানিয়েছিলেন যে পেশেন্ট এর চিকিৎসার জন্যে তারা প্রায় ৮৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন এবং তা চিকিৎসা ফান্ড এ দিয়েছিলেন।
আলহামদুলিল্লাহ। আসলে পারস্পরিক দায়িত্ববোধের জায়গা তো এটাই! আপনি হয়তো পুরো টাকাটা দিতে পারবেন না, কিন্তু একটা অংশের দায়িত্ব আপনি অবশ্যই নিতে পারবেন।
জনাব আজাদ এর চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হয়; এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
পূর্ববর্তী পর্ব পড়ুন:
[১] : মুনীর ফাউন্ডেশন কিভাবে এবং কেন শুরু হলো?

One Comment

  • Md Karimul Islam says:

    আল্লাহ মুনির ফাউন্ডেশনের সকল কাজ কবুল করে, সংশ্লিষ্ট সকলকে এর উওম প্রতিদান দিক।
    মুনির ফাউন্ডেশনের সফলতা কামনা করছি।

Leave a Reply